শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৬

হাকিমতপুর ডাঙ্গার গল্প

হাকিমতপুর ডাঙ্গার গল্প



শহর যাইবা না , শহর ?
ঝড় আইলো আইলো করে যে , দেখোনা ওই পস্ছিমদিক কেমন  ম্যাঘ কালো হইয়া আসে।
বিকালভর গাঙ্গের জলে পা-ডুবাইয়া বইসা থাকো এইসময় ; পাটখ্যাতের মাথার উপর কালা ফিঙ্গা উড়ে আর বসে ; ঢিলাঢালা লুঙ্গিপরা হাবুলের পোলা নয়াচরের ঘাসবোঝাই ডিঙ্গা নিয়া ফেরে , দূর থ্য়িকা হাঁক দেয় একটা।

 খন্দকার চাচার ভুটভুটি আর দিনের শ্যাষ  কয়ডা লোকলস্কর নিয়া এই ফিরল ফিরল করে। এইসময় চড়ার ঐপারের গাছগাছালির গন্ধ পাইবা, চুপ করে ঝিম নিয়া বইয়া থাকলে , নয়া আমের আঠার বাস আনচান করবে বাতাসে ; সরু সরু আড়াল ডগার নয়া ঝাউগাছের গোড়ার গন্ধ পাইবা ; সাদা সাদা বালু মনে হয় যেন সারাদিন ঘুমায় , ব্যাপারডা ঠিক সেইরাম নাই , এই পহরে বালুর দানা নিজের নিজের মত নাড়াচাড়া করে , ফিশফিশ করি কথা কইতে চায় , তোমার কান থায়কলেই শুনবার পারো আর দুই দিকে যদ্দুর যদ্দুর চোখযায় , সেই যে  পদ্মার পানি আহা সে ত পানি না মায়া, খোদ মায়া আর মায়ার কেচ্ছা , কেমন দেখো ছলাত্ ছলাত্ করি আসমান জমিন এক কইরা ঘোর লাগায় দেয় জষ্ঠি মাসের মাঝবেলা।


ও বাপ , শহর যাবা না , শহর ? কামের কিছু একটা হদ্দ কর এইবার।


তার কি আর শহরে মন আছে ! দেখো কেমনে হাঁটু ডুবায় বাউলার মতন চায়া থাকে বরকতের গঞ্জের  দিকে বোবা হয়া । এত শব্দ আর কই , তিমির মল্লা কয় এই হাকিমতপুরার ডাঙ্গার গল্প শুনাইতে গেলেই তোমার  তিনলাখ শব্দ দরকার , তারপরও গোটা গল্প নিখূত হবেনা নাকি ! তাইলে নিয়াজপুরা , বর্কতগঞ্জের কথা কইতে লাগবো আরো ছয়লাখ , আল্লারে , এত শব্দ তামাম দুনিয়ায় খুইঁড়া খুইঁড়া ওলটপালট কৈরলেও মিলবে না যে।  ব্যাটা তিমির মাঝি মিছা কথা কইতে পারে নাইলে গুইনতে ভুল করসে ঠিক ।
শহর সে যাবে নাহ আর , হাঁ একদম সাচ্চা ঠিক কৈরাই ফেলসে , নোয়াখালীর মাইনসের মত এত ছটফট ছটফট কইর্যা লাভ নাই ! শহর সে যাবে না যাবেই না , জান থাইকতে। এই যে সারাদিন তারে যেমনে চকচক করা বালু সুড়সুড়ি দেয় , কাশিয়ার বনের ভেতর যে হওয়ার বাউরি উঠে পাঁক খায় আর পাঁক খায় তারপর শিমুলের ডগা ছাড়ায় আসমানের ভেতর হারায় যায় , বরকতগঞ্জের ঐপারে যে দ্যাশ কেমন কায়দায় তারে ডাকে দিনরাত , সে যাইতে পারেনা , খালি বইস্যা বইস্যা আমোদ নেয় কেমন অচিন জিনিসের টান কইলজার ভিতর আদর কইরা নাড়াচাড়া করে , শহরে কই এত্ত টানের মায়া ? তিমিরমল্লার একদিনের যোগার করা শব্দই তো সাঁ কইর্যা শহরের তামাম গল্প কয়া দিতে পারবে অনায়াসে।  নয়া জিনিসের বড় অভাব যে শুকান শুকান শহরডায়।  তার চেয়ে নিয়াজপুর মেল্লা ভালো , অচিন জিনিসের কমতি নাই , এক একটারে খুইজতেই গন্ডায় গন্ডায় সাল লাগবে আর লাখে লাখে শব্দ ! নাহ , শহর যায়া কাম নাই আব্বাজান !


    

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন